পণের দাবিতে গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামীসহ ২
দি নিউজ লায়ন ; মুর্শিদাবাদ থানার ইছাগঞ্জে এক গৃহবধূকে পণের দাবিতে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় তার স্বামী সহ শ্বশুরকে। পলাতক আরো এক অভিযুক্ত। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতার নাম সুপ্রভা সিংহ(৩৪)। অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পণের দাবীতে শ্বাসরোধ করে খুনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে পেশায় পুলিস কনস্টেবল স্বামী প্রদীপ সিংহ সহ তিনজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তড়িঘড়ি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস খুনে অভিযুক্ত কনস্টেবল স্বামীসহ তার বাবা কে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের সোমবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হবে।স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৭ আগে মুর্শিদাবাদ থানার নশিপুরের বাসিন্দা পুলিস কনস্টেবল প্রদীপ সিংহকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ইছাগঞ্জের সুপ্রভা। তাঁদের একটি পাঁচ বছরের ছেলে রয়েছে।
অভিযোগ বিয়ের বছরখানেক পর থেকেই পণ সহ বিভিন্ন অজুহাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বধূর উপর মানসিক অত্যাচার শুরু করে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ওই যুবতী বেশ কয়েকবার ছেলেকে নিয়ে বাপেরবাড়ি চলে গিয়েছিলেন। পরে স্বামী গিয়ে বুঝিয়ে নিয়ে আসেন। এদিন বউমা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেশীদের জানান প্রদীপের বাবা।
প্রতিবেশীদের সাহায্যে ওই বধূকে উদ্ধার করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না বলে পুলিসকে জানিয়েছেন অভিযুক্ত কনস্টেবল। মৃতার দাদা সুদীপ্ত সিংহ বলেন, বোন ভালোবেসে বিয়ে করলেও যথাসাধ্য যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। তবুও বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নানা দাবিতে বোনের উপর নির্যাতন শুরু হয়।
আমাদের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো দাবি মেটানোর চেষ্টা করতাম। তারপরেও বোনটাকে মেরে ফেলল। আমরা নিশ্চিত প্রদীপ ও তার বাড়ির লোকেরা মেরে ঝুলিয়ে দেয়। বোনের খুনিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি"।

Post a Comment